জরুরি স্বাস্থ্যবার্তা

চালের গুড়ার স্যালাইন
যেসব এলাকায় লবণাক্ততা আছে সে সমস্ত এলাকায় ORS চলবে না, সেখানে চালের গুড়ার স্যালাইন খুবই উপকার দিবে।
• চালের গুঁড়ার স্যালাইন বানাতে প্রথমে একটি পরিষ্কার পাত্রে আধা সেরেরও কিছু বেশি নিরাপদ পানি নিতে হবে। এবার এতে পাঁচ চা চামচ চালের গুঁড়ো মেশাতে হবে। এরপর মিশ্রণটি ৩ থেকে ৫ মিনিট চুলায় জ্বাল দিয়ে সিদ্ধ করে নিতে হবে। সেদ্ধ করার সময় একটি পরিষ্কার চামচ দিয়ে বার বার নাড়াতে হবে। না নাড়ালে চালের গুঁড়া জমে যাবে। মিশ্রণটি চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা করে এক চিমটি লবণ মিশিয়ে দিতে হবে (পানি লবণাক্ত হলে লবণ মেশানোর দরকার হবে না) খাওয়ানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে গেলো চালের গুঁড়ার স্যালাইন। তৈরির পর কোন স্যালাইন ৬ থেকে ৭ ঘন্টার বেশি রাখা উচিৎ না। প্রয়োজনে, আবার নতুন করে খাবার স্যালাইন তৈরি করে নিতে হবে।


১) শিশু অধিকতর শক্তিশালী হওয়ার জন্য বাড়তি দুই চা চামচ তেল মিশিয়ে খাবার তৈরি করুন
• শিশুর ছোট পেট। তাই পরিমাণে অল্প অথচ বেশি শক্তিদায়ক খাবার দিয়ে তাদের শক্তির চাহিদা পূরণ করতে হয়।
• শুধু ভাত বা রুটি দিয়ে শিশুর প্রয়োজনীয় শক্তির চাহিদা পূরণ হবে না।
• তেল, গুড় ও চিনিতে রয়েছে প্রচুর শক্তি।
• মনে রাখবেন আপনার শিশুকে শক্তিশালী করার জন্য খাবারের সাথে একটু তেল, গুড় বা চিনি দিতে হবে।

২) কারো পাতলা পায়খানা হলে তাকে সাথে সাথে খাবার স্যালাইন দিন (রোগীকে স্বাভাবিক খাবারও খেতে হবে)
• পাতলা পায়খানা হওয়ার সাথে সাথে যে কোন ধরনের তরল খাবার যা ঘরে আছে তা রোগীকে দিন। যেমনঃ ভাতের মাড়, চিড়ার পানি, ডাবের পানি, লেবুর সরবত, হালকা চা, মায়ের দুধ ইত্যাদি।
• ডায়রিয়া হলে তিন আঙ্গুলের এক চিমটি লবণ ও এক মুঠ গুড় আধাসের বিশুদ্ধ পানিতে ভালোভাবে মিশিয়ে স্যালাইন তৈরী করে রোগীকে খাওয়ান। রোগীকে স্বাভাবিক খাবার খেতে হবে এবং শিশু হলে অবশ্যই মায়ের দুধ দিতে হবে।
• আধাসের নিরাপদ পানিতে প্যাকেট স্যালাইন মিশিয়েও রোগীকে খাওয়াতে পারেন।
• রোগীর অবস্থা বিপদ জনক হলে যেমন-পায়খানার সাথে রক্ত গেলে বা ঘন ঘন বেশি পরিমানে পাতলা পায়খানা হলে এবং জ্বর থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
• মনে রাখবেন কোন ধরনের গোলানো স্যালাইনই ছয় ঘন্টার বেশি রাখা যায় না। গরম করলে এর উপকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
• পায়খানা না থাকলে নির্দিষ্ট স্থানে মল ত্যাগ করুন এবং সংগে সংগে তা মাটি বা ছাই দিয়ে ঢেকে দিন। শিশু এদিক সেদিক পায়খানা করলে তাহলে ঐ নির্দিষ্ট স্থানে পুঁতে ফেলুন।
• খাওয়ার আগে ও পায়খানা করার পর অবশ্যই হাত পরিষ্কার করুন।
• মাছি রোগ ছড়ায়, খাবারে মাছি বসতে দেবেন না। খাবার সব সময় ঢেকে রাখুন।
• পচা বাসি খাবার বিপদ জনক। কারণ পচা বাসি খাবার খেলে ডায়রিয়া, আমাশয় ইত্যাদি রোগ হয়।
• হাতের নখ কেটে পরিষ্কার রাখুন।

৩) জ্বরের সাথে সোথে শিশুর শ্বাসকষ্ট হলে সংগে সংগে ডাক্তার দেখান।
• শিশুর জ্বর হলে ও জোরে জোরে শ্বাস দিলে এবং বুকের মাঝখানটি উঠানামা করলে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
• অসুস্থ শিশুকে মায়ের দুধসহ বাড়তি তরল খাবার ও অন্যান্য স্বাভাবিক খাবার দিতে হবে।
• জ্বর বেশি হলে ঠান্ডাপানি দিয়ে মাথা ধুয়ে দিতে হবে এবং শরীর মুছে দিতে হবে, যাতে জ্বর কমে যায়।
• জ্বরের রোগীকে অতিরিক্ত কাপড় চোপড় দিয়ে ঢেকে রাখবেন না। শিশুর কানে ব্যাথা, কান থেকে পুঁজ পড়া, গলা ব্যাথা অথবা গলা ফুলে গেলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৪) খোস-পাঁচড়া হলে শিশুতে সাবান দিয়ে গোসল করিয়ে নিমপাতা সিদ্ধ পানিতে লবন মিশিয়ে গায়ে ঢালুন।
• খোস-পাঁচড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য সব সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন।
• গোসল করার সময় অবশ্যই সাবান ব্যবহার করবেন। তারপর নিমপাতা সিদ্ধ পানিতে লবন মিশিয়ে গায়ে ঢালুন।
• খোস-পাঁচড়া আক্রান্ত রোগীর কাপড় চোপড় ও অন্যান্য জিনিসপত্র গরম পানিতে ধুয়ে ভালো করে রোধে শুকিয়ে নিন।
• খোস-পাঁচড়া দেখা মাত্রই নিকটস্থ ডাক্তারের সাহায্য নিন ও চিকিৎসা করুন।
• খোস-পাঁচড়ার উপরের খোসা পরিষ্কার করে সেখানে নিমপাতা বেটে লাগাতে পারেন।

৫) বন্যার পর রোগ খুব তাড়াতাড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
• টিকা দিলে শিশুরা ধনুষ্টংকার, পোলিও, হাম, ডিপথেরিয়া, যক্ষ্মা এবং হুপিং কাশি থেকে রক্ষা পায়।
• শিশুর বয়স দেড় মাস হলেই তাকে টিকা দেয়া শুরু করতে হবে।
• আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত শিশুদের জন্য হাম একটি বড় সমস্যা। ছয় মাসের বেশি বয়সের সকল শিশুকে হাম প্রতিষেধক টিকা দেয়া উচিত। কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় এই শিশুটিকে নয় মাস বয়সে আর একটা হামরে টিকা দিতে হবে।
• গর্ভাবস্থায় দুই ডোজ টিটেনাস ইনজেকশন গর্ভবতী মা ও শিশু দুইজনকেই ধনুষ্টংকার রোগ থেকে রক্ষা করে। অসুস্থ শিশুকেও টিকা দেওয়া নিরাপদ।

Leave a Reply