শীতে আগুনে তাপ পোহানোর সময় এবং পুরনো বস্ত্র দেওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা

সতর্কবার্তা, ১৫ ডিসেম্বর ২০২১

ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, মাসের শেষে শীতের প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। শীতে বেশি ভোগান্তির শিকার হয় শিশু ও প্রবীণেরা। তাই এসময় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া প্রয়োজন। কিছু সর্তকর্তামূলক পদক্ষেপ আগুন পোহানোর সময় মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে পারে। সাথে শীতে অসহায় ব্যক্তিদের যথাযথ নিয়ম মেনে গরম বস্ত্র দেওয়ার মাধ্যমে ঠান্ডাজনিত রোগের হাত থেকে তাদের সুরক্ষা দেওয়া যেতে পারে।
আগুন পোহাতে গিয়ে মৃত্যু ঝুঁকি
শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আগুন পোহানোর সময় দগ্ধ হন অনেকে। আগুনে দগ্ধ হয়ে দেশের উত্তরাঞ্চলে বেশি মানুষ মারা যান। শীতে সাধারণত নারী, শিশু এবং প্রবীণদের দগ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে শাড়ির আঁচল, চাদর, উলের চাদরের মতো কাপড়ে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। কখনও কখনও গরম পানি দিয়ে গোসলের সময় পানি মাত্রাতিরিক্ত গরম থাকায় তাতেও দগ্ধ হয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটতে পারে। আগুন লাগার পরে তাৎক্ষণিক কি করতে হবে তা বেশিরভাগ মানুষ বুঝতে পারে না। কিছু করার আগেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরনে থাকা উলের তৈরি সোয়েটার, লেপ, কাঁথা বা কম্বল এমন ভারী কাপড়ে অনেক দ্রুত আগুন ছড়ায় এবং তার তীব্রতা বেশি থাকে। ফলে পুড়ে যাওয়ার মাত্রাও তুলনামূলক বেশি হয়। আগুন পোহানোর সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করলে এই দুর্ঘটনার হার কিছুটা কমানো যাবে।
১। গ্রামাঞ্চলে নারীরা সাধারণত শাড়ি পরেন। শীত সহ্য করতে না পেরে বাড়ির পাশেই খড়ের মধ্যে আগুন ধরিয়ে তাপ নেন অনেকে। এমন সময় শাড়ির আঁচলে আগুন লেগে গেলে শীতের তীব্রতার কারণে বোঝা যায় না। এই ক্ষেত্রে শাড়ি ভালোভাবে পেঁচিয়ে তারপর বসুন।
২। শীতের মধ্যে এলাকার ছেলেরা মিলে কৃষকের খড়ের পুঞ্জির পাশে আগুন জ্বেলে তাপ পোহাতে গিয়ে সেই পুঞ্জি পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। কৃষকের জন্য এ ক্ষতি অপূরণীয়। কৃষকের খড় যেখানে আছে তার থেকে দূরে আগুন পোহালে ভালো। সম্ভব হলে আশেপাশে কৃষকের খড় বা কারো বাড়ি নাই এমন স্থানে আগুন পোহানো ভালো।
৩। আগুন পোহানো হয়ে গেলে আগুন ভালোভাবে নিভিয়ে দিন। না হয় অজান্তে কেউ সেখানে গেলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
৪। যারা বার্বিকিউ পার্টি করছেন, যতোটা সম্ভব সাবধানে থাকুন। নিশ্চিত হোন আপনার ফায়ার প্লেসের আগুন পুরোপুরি নিভেছে কি-না। সামান্য আগুনের ফুলকা থেকেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অনেকেই হয়তো শীত বস্ত্র সংগ্রহ শুরু করছেন শীতার্ত মানুষদের জন্য। তবে শীত বস্ত্র বিতরণে একটা বিশেষ বিষয় খেয়াল রাখা প্রয়োজন সবারই।
১) পুরনো কাপড় দিতে হলে অবশ্যই সেটা খুব ভালো করে কেচে দুই দিক ইস্ত্রি করে, অর্থাৎ ঠিকমত লন্ড্রি করে তবেই দিতে হবে। পুরনো কাপড়ের মাধ্যমে রোগ ছড়ায়। অপুষ্টিতে ভোগা মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। এসব না কাচা, বা যথাযথ লন্ড্রি না করা কাপড়ের ভিতরে থাকা নানা চর্ম রোগের জীবানু দ্বারা তারা খুব সহজেই সংক্রমিত হতে পারে। কাজেই পুরনো শীতবস্ত্র সংগ্রহের সময় বলে দিতে হবে যথাযথ সাবান, সোডা দিয়ে কেচে রোদে শুকিয়ে তারপর দুইদিক ইস্ত্রি করে তবে বিতরণ করুন।
২) গবেষকদের মতে পুরনো কাপড়ের মাধ্যমে ঠান্ডা জ্বর, অ্যামিবিক আমাশয়, আমাশয়, গনোরিয়া, উকুন ও ছারপোকাবাহিত রোগ, হাম, চিকেন পক্স, মামস, টনসিল, জার্মান হাম, সোয়াইন ফ্লু, হাত-মুখ ও পায়ের নানা রোগ ছড়াতে পারে। কোভিডের কারণে এক্ষেত্রে আমাদের আরও সচেতন হতে হবে।
৩) পুরনো কাপড়ে শিশুর বিষক্রিয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে জ্বর, কাশি, মাথব্যথা, সারা গায়ে বা শরীরে বিশেষ বিশেষ জায়গায় ঘামাচির মতো বস্তু, তলপেটে ব্যথা, নাক দিয়ে পানি ঝরা, বমি বমি ভাব, বমি করা ইত্যাদি আলামত দেখা দিবে। পুরনো কাপড় গায়ে দেয়ার পর শিশুর বা বড়দের এসব উপসর্গ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে সব পুরনো কাপড় খুলে ফেলতে হবে। পুরনো কাপড় শরীরে রেখে এসব উপসর্গ থেকে উত্তরণের জন্য ওষুধ খেলে হিতে বিপরীত হতে পারে।
৪) বিতরণের সময় কোনো অবস্থাতেই ভিতরে পরার কাপড় যেমন গেঞ্জি, আন্ডারওয়ার ইত্যাদি বিতরণ ও সংগ্রহ করা ঠিক নয়।

Leave a Reply