বাংলাদেশে সম্প্রতি শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এখন নয় মাসের বদলে ছয় মাস বয়সেই হামের টিকার প্রথম ডোজ প্রদান করা হবে।
এর আগে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) অনুযায়ী শিশুকে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে হামের টিকা দেওয়া হতো। তবে প্রশ্ন উঠেছে, ৬ বা ৯ মাসের আগে কোনো শিশু হাম -এ আক্রান্ত হলে কী করণীয়।
চিকিৎসকদের মতে, ৯ মাস বয়সের আগেও শিশুরা হামে আক্রান্ত হতে পারে, বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের ক্ষেত্রে। যেসব শিশু এখনো টিকা নেয়নি, ১৫ মাসের কম বয়সী, অপুষ্টিতে ভোগে বা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম—তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রকে আক্রমণ করে। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে খুব সহজেই অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।
🧒 হাম (Measles) কীভাবে বুঝবেন?
হাম একটি খুব সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। শুরুতে সাধারণ ঠান্ডা মনে হলেও পরে গুরুতর হতে পারে। ৬ মাসের কম বা আশেপাশের বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে হাম খুব সংবেদনশীল বিষয়।
⚠️ কারা বেশি ঝুঁকিতে?
১৫ মাসের কম বয়সী শিশু
যারা টিকা নেয়নি বা ডোজ অসম্পূর্ণ
অপুষ্টিতে ভোগা শিশু
দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে এমন শিশু
🧒 ৬ মাসের আগে বা কাছাকাছি বয়সে হাম হলে কীভাবে বুঝবেন?
র্যাশ ওঠার আগেই লক্ষণ শুরু হয়। খেয়াল করুন—
- জ্বর
- সর্দি, কাশি
- চোখ লাল হওয়া, পানি পড়া
- গলা ব্যথা, অস্বস্তি
👉 অনেক সময় এগুলো সাধারণ ঠান্ডা মনে হয়, তাই সতর্ক থাকা জরুরি।
⚠️ ৬ মাসের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে করণীয়
- দ্রুত ডাক্তার দেখান (দেরি করবেন না)
- শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখুন
- বুকের দুধ চালিয়ে যান (এটা রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে)
- শিশুকে পর্যাপ্ত পানি/তরল দিন (ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী)
- চোখ, নাক পরিষ্কার রাখুন
- ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন A দেওয়া হতে পারে
🚨 কখন জরুরি অবস্থা মনে করবেন?
নিচের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যান—
- শ্বাস নিতে কষ্ট
- খেতে না পারা
- অতিরিক্ত দুর্বল বা ঘুম ঘুম
- খিঁচুনি
🛑 সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
র্যাশের জন্য অপেক্ষা করবেন না।
জ্বর + সর্দি-কাশি হলেই শিশুকে আলাদা রাখুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
💉 টিকা সম্পর্কে (বর্তমান পরিস্থিতি)
- সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাসে টিকা দেয়া হয়
- বর্তমানে সংক্রমণ বাড়ায় ৬ মাসেই প্রথম ডোজ দেয়া হচ্ছে (বিশেষ পরিস্থিতিতে)
- তারপর নিয়ম অনুযায়ী আবার ডোজ নিতে হবে
- টিকা ৯০–৯৫% কার্যকর, তবে টিকা নিলে রোগের জটিলতা কম হয়
✔️ সচেতনতা
- জ্বর-কাশি হলে অবহেলা করবেন না
- শিশুকে অন্যদের সংস্পর্শে যেতে দেবেন না

