তীব্র গরমে পুড়ছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল। বুধবার রাজশাহীতে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে চলছে ২৪ জেলায় তাপপ্রবাহ। এই অবস্থা আরও অন্তত চার দিন থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
শিশুরা যেহেতু সব কথা বুঝিয়ে প্রকাশ করতে পারে না তাই এই ধরণের পরিস্থিতিতে বড়দের থেকে শিশুরা কষ্ট পায় বেশি । অন্যদিকে সঠিক যত্নের অভাবে পথশিশুদেরও এই তীব্র গরমে সম্মূখীন হতে হয় বিভিন্ন দুর্ভোগে। বিভিন্ন স্কুলে এসএসসি পরীক্ষাসহ স্কুল পরীক্ষাও শুরু হয়েছে। এই গরমে সঠিক যত্ন না নিলে শিশুরা সহজেই অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। অতিরিক্ত ঘামের কারণে পানিশূন্যতা দেখা দিতে পারে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং শিশুরা দুর্বল হয়ে পড়ে। এছাড়া জ্বর, বমি, ডায়রিয়া ও হজমজনিত সমস্যাও হতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এ সময়ে শিশুদের নিয়মিত নিরাপদ পানি ও পানি জাতীয় খাবার দিতে হবে। একই সঙ্গে ঘামাচি বা চুলকানি যেন না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।
গরমে শিশুর পোশাক হওয়া উচিত ঢিলেঢালা ও সুতির, যাতে ঘাম শরীরে না জমে। প্রয়োজনে শরীর মুছে দিতে হবে এবং প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। গোসলের পর শরীর ও চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিতে হবে।
খাবারের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি। বাইরে তৈরি জুস, আইসক্রিম বা অস্বাস্থ্যকর খাবার না খাওয়ানোই ভালো। তৈলাক্ত ও ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে সহজপাচ্য খাবার দিতে হবে। বিষমুক্ত তরমুজ, শসার মতো রসালো ফল এ সময় উপকারী।
সকাল ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত তীব্র রোদে বাইরে যাওয়া বা খেলাধুলা পরিহার করা উচিত। বাইরে গেলে শিশুর সঙ্গে অবশ্যই পানি রাখতে হবে।
বর্তমানে হাম, মাম্পস, চিকেন পক্স এবং ডেঙ্গুর প্রকোপও দেখা যাচ্ছে। তাই গরমের পাশাপাশি মশার হাত থেকেও শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে হবে। মশারি ব্যবহার করা জরুরি।
শিশুদের সুস্থ রাখতে করণীয়
• স্কুলে যাওয়ার সময় শিশুদের সঙ্গে নিরাপদ পানি ও খাবার দিতে হবে।
• স্কুলগুলোতে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
• খেলাধুলার পর পানির ঘাটতি পূরণে পানি, ডাবের পানি বা তাজা ফলের শরবত দেওয়া যেতে পারে।
• টিফিনে বাসি বা অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার দেওয়া যাবে না।
• শিশুকে জোর করে খাওয়ানো উচিত নয়।
• বাইরে থেকে কেনা খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে অভিভাবক ও শিক্ষকদের নজর রাখতে হবে।
• বাড়ি বা স্কুলের আশপাশে পুকুর, নদী বা জলাশয় থাকলে শিশুদের নজরে রাখতে হবে।
• বালতিতে পানি জমিয়ে রাখলে ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে এবং বাথরুমের দরজা বন্ধ রাখতে হবে।
• প্রতিদিন গোসল করানো এবং পরিষ্কার কাপড় পরানো জরুরি।
• রাতে ঘুমানোর সময় হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরাতে হবে।
• ঘরের পরিবেশ ঠান্ডা ও বাতাস চলাচল উপযোগী রাখতে হবে।
• শিশুদের নিয়মিত মৌসুমি ফল খাওয়াতে হবে, এতে পুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে
তীব্র গরমে শিশুরা অনেক সময় অস্বস্তি প্রকাশ করতে না পেরে বিরক্ত হয়ে ওঠে। এ সময় বড়দের ধৈর্য ধরে তাদের স্বস্তি দেওয়ার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।
তথ্যসূত্র: ডাঃ কণা চৌধুরী, বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক

