যেকোন দুর্যোগে সবার আগে শিশুদের কথা ভাবুন

এবারের ভূমিকম্পে সিসি টিভির ফুটেছে দেখা গেছে অনেক অভিভাবক সাথে  থাকা শিশুদের ছেড়ে দৌড় দিচ্ছে।  এসব দৃশ্য আমাদের অনেককেই ব্যথিত করেছে। ভবিষ্যতে সচেতনভাবে সাথে থাকা অথবা কাছাকাছি থাকা শিশুদের (নিজের শিশু না হলেও) রক্ষার জন্য আমাদের যত্নশীল হতে হবে।

আপনার সন্তানের কাছে সহজ এবং বয়স অনুযায়ী শব্দ ব্যবহার করে কি হতে পারে তা ব্যাখ্যা করুন। কোথা দিয়ে বের হবে, কোথায় সবাই একত্র হবে এগুলো আগে থেকেই বলে দিন। বুঝিয়ে বলুন যে, তাদের নিরাপত্তাই আপনার সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

বাড়ির কোন জায়গাটি ভূমিকম্পের সময় সবচেয়ে নিরাপদ—তা সবাইকে দেখিয়ে দিন। শিশুদের বলুন ভূমিকম্প অনুভব করলে যেন সঙ্গে সঙ্গে সেই জায়গায় যায়। সাধারণত জানালাবিহীন ভেতরের কোনো ঘর—যেমন বাথরুম বা স্টোররুম—নিরাপদ। সম্ভব হলে মজবুত টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিতে বলুন।

পরিকল্পনা করার পরে শিশুদের সঙ্গে খেলার ছলে নিয়মিত অনুশীলন করুন। মহড়া করলে তারা বুঝবে কী করতে হবে এবং কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে।

যদি স্কুল বা ডে-কেয়ার যদি উঁচু ইমারতে হয়, তাদের জরুরি পরিকল্পনা সম্পর্কে জেনে নিন। কীভাবে তারা শিশুদের বের করবে, কীভাবে অভিভাবকদের খবর দেবে, প্রয়োজনে অন্য কোথা থেকে শিশু তুলে নিতে হবে এসব নিশ্চিত করুন।

ফোন নম্বর, ঠিকানা—এসব পরিবর্তন হয়। তাই স্কুল বা ডে-কেয়ারে দেওয়া জরুরি যোগাযোগের তথ্য সবসময় ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিন, যাতে ভূমিকম্পের সময় আপনি জানেন আপনার শিশু কোথায় এবং কে তাকে নিয়ে যেতে পারবে।

যদি ঘরের ভেতরে থাকেন, মাটিতে ঝুঁকে পড়ুন; শক্ত কোনো টেবিল বা ডেস্কের নিচে আশ্রয় নিন। এক হাত দিয়ে টেবিল শক্ত করে ধরুন এবং অন্য হাত দিয়ে মাথা-ঘাড় ঢেকে রাখুন। আশ্রয় নেওয়ার মতো কিছু না থাকলে ভেতরের কোনো দেয়ালের পাশে বসে মাথা ঢেকে রাখুন। কাঁপুনি থামা পর্যন্ত ঘরের ভেতরেই থাকুন।

যদি বাইরে থাকেন, ভবন, গাছ, লাইটপোস্ট বা বৈদ্যুতিক তার থেকে দূরে খোলা জায়গায় চলে যান। মাটিতে বসে বা ঝুঁকে থাকুন যতক্ষণ না কাঁপুনি থামে।

যদি গাড়িতে থাকেন, নিরাপদ খোলা জায়গায় গাড়ি থামিয়ে সিটবেল্ট বাঁধা অবস্থায় কাঁপুনি থামা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।

ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি নিরাপদ হলে বাসা পরিষ্কারের মতো ছোট কাজে শিশুদের যুক্ত করুন। এতে তারা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার অনুভূতি পায় এবং মানসিকভাবে স্থির থাকে।

শিশুকে তার ভয়, দুশ্চিন্তা বা রাগের অনুভূতি প্রকাশ করতে উৎসাহ দিন। মনোযোগ দিয়ে শুনুন, বোঝার চেষ্টা করুন এবং আশ্বস্ত করুন। বলুন এই পরিস্থিতি স্থায়ী নয়। বেশি সময় তাদের সাথে থাকুন, স্নেহ দেখান। খুব প্রয়োজন হলে পরামর্শদাতার সাহায্য নিন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *