পরিস্থিতি প্রতিবেদন: আপডেট ১২ জুলাই ২০২৬
সার্বিক পরিস্থিতি
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যায় আক্রান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের ঘটনায় একাধিক জেলায় উল্লেখযোগ্য প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে, যা সামগ্রিক মানবিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী (১২ জুলাই ২০২৬), বন্যাকবলিত সাতটি জেলা হলো খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ। এ পর্যন্ত বন্যা ও পাহাড়ধসে ৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত ৩৯ জন এবং ১০ লাখ ২২ হাজার ৯৬৩ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর ৫৮টি উপজেলা, ৩৮৬টি ইউনিয়ন এবং ১১টি পৌরসভা প্লাবিত হয়েছে। বর্তমানে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮টি পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা উদ্ধার, আশ্রয় ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তবে পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং দুর্গম এলাকায় প্রবেশের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে এখনও পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, কুশিয়ারা, সাঙ্গু ও সোমেশ্বরী—এই তিনটি নদীর পাঁচটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় (১২-১৪ জুলাই, ২০২৫) সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবনরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা মানবিক কার্যক্রমের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র
বন্যা ও পাহাড়ধসে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে মোট ২৩ জন মারা গেছেন, যার মধ্যে ১০ জন স্থানীয় বাসিন্দা এবং ১৩ জন রোহিঙ্গা নাগরিক। এছাড়া অন্তত ২৪ জন আহত হয়েছেন।
চট্টগ্রাম জেলায় বন্যা, পাহাড়ধস ও দেয়ালধসের ঘটনায় ১১ জন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
বান্দরবানে পাহাড়ধস ও পাহাড়ি ঢলে ৬ জন নিহত এবং ২ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। খাগড়াছড়ি ও হবিগঞ্জে প্রাণহানির তথ্য পাওয়া না গেলেও সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, বসতবাড়ি প্লাবিত হওয়া এবং দীর্ঘস্থায়ী জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
একনজরে ক্ষয়ক্ষতি
| সূচক | সর্বশেষ তথ্য |
| মৃত্যু | ৫১ জন |
| আহত | ৩৯ জন |
| ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ | ১০,২২,৯৬৩ জন |
| পানিবন্দি পরিবার | ২,৬৭,৯১৮ |
| প্লাবিত উপজেলা | ৫৮ |
| প্লাবিত ইউনিয়ন | ৩৮৬ |
| প্লাবিত পৌরসভা | ১১ |
| আশ্রয়কেন্দ্র চালু | ১,১৩১ |
| আশ্রয় নেওয়া মানুষ | ৪৪,৪৫৭ জন |
| বিপৎসীমার উপরে পর্যবেক্ষণ স্টেশন | ০৩টি নদীর ০৫টি জেলার ০৫টি পয়েন্ট – সাঙ্গু নদী বান্দরবান (বান্দরবান) ও দোহাজারী (চট্টগ্রাম) স্টেশন; কুশিয়ারা নদী মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) স্টেশন; সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা (নেত্রোকাণা) |
জেলাভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সাতটি জেলায় মোট ১০,২২,৯৬৩ জন মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। চট্টগ্রামের ১৬টি উপজেলার ১৫২টি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকা আংশিকভাবে জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে। পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৮ হাজার ৫০০ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৫ লাখ ৯৫ হাজার। জেলায় নিহত হয়েছেন ১৩ জন এবং আহত হয়েছেন ১২ জন। সেখানে ৬১৮টি আশ্রয়কেন্দ্রে বর্তমানে ২১ হাজার ৯০০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা ও রান্না করা খাবার বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
কক্সবাজারের ১০টি উপজেলার ৭০টি ইউনিয়ন ও চারটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৩৯ হাজার ৫০৬টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ১ লাখ ৫৮ হাজার ২৭। স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গাসহ মোট নিহত হয়েছেন ২৮ জন, যার মধ্যে ১৩ জন রোহিঙ্গা। আহত হয়েছেন ২৪ জন, যার মধ্যে পাঁচজন রোহিঙ্গা। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। জেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১ হাজার ৫৮০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বান্দরবানের সাতটি উপজেলার ৩৪টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১২ হাজার ৫০০টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৮ হাজার ৩৫০। সেখানে নিহত হয়েছেন ছয়জন এবং আহত হয়েছেন দুজন। জেলায় ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৬ হাজার ২৫০ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার, ঢেউটিনসহ বিভিন্ন ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
রাঙ্গামাটির নয়টি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১ হাজার ৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩ হাজার ৫২৪। সেখানে তিনজন নিহত হয়েছেন। জেলায় ৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৬৩৭ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ির নয়টি উপজেলার ৩৩টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ১ হাজার ৭৩টি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৪১৭। সেখানে একজন আহত হয়েছেন। জেলায় ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ৮৮৩ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পাঁচটি উপজেলার ৩১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৭ হাজার ৩০৮টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৬ হাজার ৫৪৪। সেখানে একজন নিহত হয়েছেন। জেলায় ২০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ২ হাজার ১৭২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলায় ৬ হাজার ৪৪৪টি পরিবার পানিবন্দি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা ২৮ হাজার ১৪০। জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, দুটি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও সেখানে এখন পর্যন্ত কেউ আশ্রয় নেননি। ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে চাল, নগদ অর্থ, শুকনা খাবার ও ঢেউটিন বিতরণ করা হয়েছে।
বন্যার পানিতে অসংখ্য বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কৃষিজমি, বাজার এবং স্থানীয় সড়ক প্লাবিত হয়েছে। বহু পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ে স্থানান্তরিত হলেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এখনও নিজ বাড়িতে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং দৈনন্দিন জীবিকাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসের কারণে সড়ক যোগাযোগ, পরিবহন ব্যবস্থা এবং জনসাধারণের অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (RHD) এবং স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED)-এর তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায়—
- প্রায় ২৪৭.৬৫ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- ১৭৬টি সেতু ও কালভার্ট আংশিক বা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
- প্রায় ৫০.৫৬ কিলোমিটার জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এছাড়া রাঙামাটি–বান্দরবান সড়কের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ধসে পড়ায় দুই জেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিভিন্ন এলাকায় পাহাড়ধস, সড়ক ভেঙে যাওয়া এবং পানি প্রবাহের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে দুর্গম অঞ্চলে নৌকাই অনেক মানুষের একমাত্র যাতায়াতের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধার, চিকিৎসা এবং ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বিলম্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী ও অন্যান্য জরুরি সরবরাহ পরিবহনও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
মানবিক পরিস্থিতি
সরকারের উদ্যোগে ১,১৩১টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ৪৪,৪৫৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। তবে পানিবন্দি বিপুলসংখ্যক পরিবার এখনও নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করছেন, ফলে তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ পাচ্ছেন।
ত্রাণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় পর্যাপ্ত সহায়তা পৌঁছানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। অনেক এলাকায় নিরাপদ পানীয় পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য, রান্নার জ্বালানি, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার সংকট দেখা দিয়েছে।
বিশেষ করে নিম্নোক্ত জনগোষ্ঠী উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে—
- নারী ও কিশোরী
- শিশু ও নবজাতক
- প্রবীণ ব্যক্তি
- প্রতিবন্ধী ব্যক্তি
- দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত মানুষ
- গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা
পানিবাহিত রোগ, ডায়রিয়া, চর্মরোগ, সাপের কামড় এবং মানসিক চাপজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা নিশ্চিত করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ইঞ্জিনচালিত নৌকার মাধ্যমে দুর্গম এলাকায় খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
কার্যক্রম পরিচালনায় প্রধান চ্যালেঞ্জ
চলমান উদ্ধার ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত হয়েছে—
- পাহাড়ধস ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক এলাকায় সরাসরি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না।
- দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় নৌযানের সীমাবদ্ধতার কারণে ত্রাণ বিতরণে বিলম্ব হচ্ছে।
- কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিঘ্নিত হওয়ায় তথ্য সংগ্রহ ও সমন্বয় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
- অব্যাহত বৃষ্টিপাতের ফলে উদ্ধারকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে।
- নিরাপদ পানীয় পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে রোগবিস্তারের আশঙ্কা রয়েছে।
- অনেক ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন এখনও সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, ফলে মানবিক চাহিদার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে সময় লাগছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারি সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, মানবিক সংস্থা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বিত কার্যক্রম আরও জোরদার করা জরুরি, যাতে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে দ্রুত ও কার্যকর সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করা যায়।
সরকারি সহায়তা
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের জরুরি চাহিদা পূরণে সরকার ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার করেছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৬৪ জেলার জন্য মোট ৬,৯০০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিম্নরূপ—
| জেলা | চাল (মেট্রিক টন) | নগদ বরাদ্দ |
| চট্টগ্রাম | ৭০০ | ৪০ লাখ টাকা |
| কক্সবাজার | ৪৫০ | ৩০ লাখ টাকা |
| খাগড়াছড়ি | ৪০০ | ২০ লাখ টাকা |
| রাঙামাটি | ৪০০ | ২০ লাখ টাকা |
| বান্দরবান | ৪০০ | ২০ লাখ টাকা |
| মৌলভীবাজার | ২০০ | ১০ লাখ টাকা |
| হবিগঞ্জ | ১০০ | ৫ লাখ টাকা |
পরিস্থিতির অবনতি এবং মাঠপর্যায়ের চাহিদা মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রয়োজনে অতিরিক্ত ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বরাদ্দের উদ্যোগ গ্রহণ করা হতে পারে।
সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ এবং জরুরি সেবাদান কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
বন্যা পূর্বাভাস (১২ জুলাই ২০২৬)
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC)-এর সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর পানি এখনও বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে এবং আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন।
বর্তমানে—
- কুশিয়ারা নদী ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) স্টেশনে,
- সাঙ্গু নদী বান্দরবান ও দোহাজারী স্টেশনে এবং
- সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা স্টেশনে
পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগ এবং ভারতের মেঘালয় ও আসাম অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এর ফলে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার কয়েকটি নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
একই সময়ে ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ি জেলার মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া এবং হালদা নদীর পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এর ফলে লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালীর নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া রংপুর বিভাগের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় বৃদ্ধি পেতে পারে। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
অন্যদিকে ইতোমধ্যে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরী, মনু, ধলাই এবং খোয়াই নদীর পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ফলে এসব জেলার নদীসংলগ্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, খুলনা, বরিশাল এবং রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত (গত ২৪ ঘণ্টা, ১১-১২ জুলাই, ২০২৬)
| এলাকা | বৃষ্টিপাত (মিমি) |
| পটুয়াখালী | ১৮৭ |
| মুন্সীগঞ্জ (ভাগ্যকুল) | ১৭২ |
| ঢাকা | ১৩৫ |
| কিশোরগঞ্জ (ভৈরব) | ১৩০ |
| নরসিংদী | ১২৪ |
| ফরিদপুর | ১১৮ |
| কক্সবাজার | ১১৫ |
| টেকনাফ | ১১৩ |
| জাফলং | ১০৯ |
| চট্টগ্রাম | ১০৫ |
ভারতের মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা এবং পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলেও ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। আন্তঃসীমান্ত নদীগুলোর উজানে এ বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশের নদ-নদীর পানির ওপর এর প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়ছে এবং আগামী কয়েক দিন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে।
আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টার ঝুঁকি (১২-১৪ জুলাই, ২০২৬)
সর্বশেষ আবহাওয়া ও বন্যা পূর্বাভাসের ভিত্তিতে আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টায় নিম্নোক্ত ঝুঁকিগুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন—
- সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে নতুন করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
- ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি নদীতে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।
- রংপুর বিভাগের তিস্তা অববাহিকায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- পাহাড়ি এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে নতুন করে পাহাড়ধসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
- দুর্গম এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব এবং নিরাপদ পানীয় পানির সংকট আরও তীব্র হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি এবং মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলোকে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
নদ-নদীর বর্তমান অবস্থা
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (BWDB) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC)-এর সর্বশেষ পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দেশের তিনটি প্রধান নদীর মোট পাঁচটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিপৎসীমার ওপরে থাকা স্টেশনগুলো হলো—
| নদীর নাম | পর্যবেক্ষণ স্টেশন | অবস্থা |
| কুশিয়ারা | ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) | বিপৎসীমার ওপরে |
| কুশিয়ারা | মারকুলি (সুনামগঞ্জ) | বিপৎসীমার ওপরে |
| সোমেশ্বরী | কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) | বিপৎসীমার ওপরে |
| সাঙ্গু | বান্দরবান | বিপৎসীমার ওপরে |
| সাঙ্গু | দোহাজারী (চট্টগ্রাম) | বিপৎসীমার ওপরে |
এছাড়া সুরমা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনে আরও বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা উত্তরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে মনু, ধলাই, খোয়াই, সাঙ্গু এবং মাতামুহুরী নদীর পানি কিছু এলাকায় ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। ফলে বান্দরবান, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির পুনরায় অবনতি হওয়ার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সামগ্রিক মূল্যায়ন
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি জেলায় নদীর পানি কমতে শুরু করায় বন্যা পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতির লক্ষণ দেখা গেলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তরাঞ্চলে নতুন করে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর, ময়মনসিংহ, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে আগামী ২৪–৪৮ ঘণ্টা নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং পূর্বপ্রস্তুতি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। বর্তমান পরিস্থিতিতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি নিরাপদ পানীয় পানি, খাদ্য সহায়তা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন, শিশু ও নারীর সুরক্ষা এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সহায়তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ক্ষয়ক্ষতির দ্রুত মূল্যায়ন, কৃষি ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের পরিকল্পনা এবং প্রাথমিক পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রয়োজন। যদিও বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সশস্ত্র বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সমন্বিতভাবে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তবুও দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ, বন্যা পূর্বাভাস পর্যবেক্ষণ এবং আন্তঃসংস্থার সমন্বয় আরও জোরদার করা জরুরি।
তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকারমূলক করণীয়
বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় নিম্নোক্ত বিষয়গুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন—
১) দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন এলাকায় উদ্ধার কার্যক্রম এবং ত্রাণ বিতরণ আরও জোরদার করা। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন ও জরুরি আশ্রয়সামগ্রী নিশ্চিত করা।
২) ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করার সময় শিশু, কিশোর, নারী, প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চাহিদা উপযোগী খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী বিতরণ করতে হবে। ত্রাণ বিতরণ করার প্রতিটি জিনিস আলাদা প্যাকেটে দিতে হবে, যেমন: আলু, চাল যেন এক প্যাকেটে দেয়া না হয়, এতে আলু পচে গিয়ে চাল নষ্ট হতে পারে।
৩) ত্রাণসামগ্রী বিতরণের সময় অন্যান্য সামগ্রীর সাথে স্থানীয় মৌসুমি ফল অন্তর্ভুক্ত করা। যেমন- পেয়ারা, লটকন, জামরুল, কাঁঠাল, পাকা তাল কিংবা যে অঞ্চলে যে ফল সহজলভ্য। এসব ফল শুধু ভিটামিন ও খনিজের উৎস নয়, এগুলো রান্না ছাড়াই খাওয়া যায়, শিশুদের জন্য উপযোগী এবং স্থানীয় বাজার থেকেই দ্রুত সংগ্রহ করা সম্ভব। অর্থাৎ এগুলো একই সঙ্গে পুষ্টিকর, সহজলভ্য এবং বাস্তবসম্মত।
৪) পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা এবং প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা জোরদার করা।
৫) নারী, শিশু, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুরক্ষা ও সহায়তা নিশ্চিত করা। বিশেষ করে পানিতে ডুবে যাওয়া থেকে রক্ষার জন্য শিশুদের এবং যাদের মৃগী রোগ আছে তাদের নিরাপদে রাখতে হবে।
৬) মোমবাতি ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে হবে। কারণ বেশিরভাগই মোমবাতি প্যারাফিন (পেট্রোলিয়াম বর্জ্য) থেকে তৈরি করা হয়। এটি পরিবেশ, মানুষ বিশেষ করে শিশুদের জন্য বিপদজনক। এর বিকল্প হিসেবে ব্যাটারিচালিত টর্চলাইট বা কেরোসিনের লন্ঠণ সরবরাহ করা যেতে পারে।
৭) পানি বিশুদ্ধ করার বড়ি ব্যবহারে পানিতে একটা কটু গন্ধের সৃষ্টি হয়। শিশুরা এটি পছন্দ করে না। বিকল্প হিসেবে ফিটকিরি ব্যবহার করা যায়। এক কলসি পানিতে (আন্দাজ দশ সের) এক চা চামচ গুঁড়া ফিটকিরি ভালো করে মিশিয়ে ছয় ঘণ্টা পর উপরের পানি পান ও ব্যবহার করা যাবে।
৮) পানি কমতে শুরু করা এলাকাগুলোতে দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এবং প্রাথমিক পুনর্বাসন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
৯) প্রায় সব এলাকার একতলা ডুবে গেছে, ফলে যেসব এলাকায় পানি নামবে সাথে সাথে পানি ট্যাংক, টিউবওয়েল, সুয়ারেজ, সবগুলোই পরিষ্কার করার ব্যবস্থা করতে হবে। পানি ট্যাংকে জমানো আগের পানি সব ফেলে ভালো করে পরিষ্কার করে তারপর পানি সংগ্রহ করতে হবে। টিউওয়েলের পানি আধাঘন্টা অনবরত চেপে পানি ময়লা পানি ফেলে দিতে হবে।
১০) বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও হালনাগাদ করা।
১১) সরকারি, বেসরকারি, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থার মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করে সহায়তা কার্যক্রমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করা।
তথ্যসূত্র
১। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ। বন্যা পরিস্থিতি হালনাগাদ, ১১ জুলাই ২০২৬।
২। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (BWDB), বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (FFWC)। Flood Forecast Bulletin, ১২ জুলাই ২০২৬।
৩। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর (BMD), দৈনিক আবহাওয়া ও বৃষ্টিপাতের তথ্য।
৪। জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর এবং মাঠপর্যায় থেকে প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদন।
৫। জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত যাচাইকৃত তথ্য।
ছবি: বিডিনিউজ২৪

