সমন্বিত ও মানসম্মত মানবিক সহায়তা নিশ্চিতের আহ্বান
২৫ জুলাই ২০২৬
দুর্যোগকবলিত মানুষের মর্যাদার সঙ্গে মানবিক সহায়তা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ এবং মানবিক কার্যক্রমে জবাবদিহিতা ও সেবার মান বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা। তারা বলেন, স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণ মাঠপর্যায়ের কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং মানবিক সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে স্বাস্থ্য, ওয়াশ, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি এবং আশ্রয় ও বসতি খাতে আন্তর্জাতিক ন্যূনতম মানদণ্ড আরও সহজে বোঝা ও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ, কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং দুর্যোগ ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন করা হয়। স্ফিয়ার কমিউনিটি বাংলাদেশ দেশে স্ফিয়ার মানদণ্ডের প্রচার, মানবিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে একটি সমন্বয়মূলক প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজমিয়াক, ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের উপ-প্রতিনিধি জুলেয়েট মুরে কিসোনি এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (এমআইএম) নিতাই চন্দ্র দে সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দুর্যোগ ফোরামের সদস্য সচিব গওহার নঈম ওয়াহরা এবং সঞ্চালনা করেন মো. ইকবাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে স্ফিয়ার সচিবালয়, বিভিন্ন জাতিসংঘ সংস্থা, আন্তর্জাতিক ও জাতীয় উন্নয়ন সংস্থা, ক্লাস্টার, নেটওয়ার্ক এবং মানবিক খাতের প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন। তারা স্ফিয়ার মানদণ্ডের স্থানীয়করণ, সরকারি নীতিমালায় এর অন্তর্ভুক্তি, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তিমূলক মানবিক সহায়তা নিশ্চিতকরণ এবং রোহিঙ্গা প্রতিক্রিয়াসহ সব ধরনের মানবিক কার্যক্রমে এর কার্যকর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধান অতিথি রেজওয়ানুর রহমান বলেন, স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা অনুবাদ বাংলাদেশের মানবিক কার্যক্রমে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তিনি সরকারি স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউরে (এসওপি) স্ফিয়ার মানদণ্ড অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। ক্যারোল ফ্লোর-স্মেরেজমিয়াক বলেন, কেবল অনুবাদ নয়, বাস্তব ক্ষেত্রেও এই মানদণ্ডের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। জুলেয়েট মুরে কিসোনি বলেন, বাংলা সংস্করণ মানবিক কার্যক্রমে স্থানীয় সক্ষমতা ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, মানবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পরিচালনা, স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানদণ্ডের সমন্বয়, দুর্যোগকবলিত মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সারা দেশে স্ফিয়ার মানদণ্ড বাস্তবায়নে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের এখনই সময়।
স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণ প্রকাশের এ উদ্যোগে প্রথমে ওয়াশ ক্লাস্টার, ফুড সিকিউরিটি ক্লাস্টার, শেল্টার ক্লাস্টার এবং হেলথ ক্লাস্টার হ্যান্ডবুকটির প্রাথমিক অনুবাদ সম্পন্ন করে। পরবর্তীতে কোস্ট ফাউন্ডেশনের আর্থিক সহায়তায় দুর্যোগ ফোরাম অনুবাদটির কারিগরি পর্যালোচনা, মাঠপর্যায়ের যাচাই এবং কেন্দ্রীয় পর্যায়ের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বইটি প্রকাশ করে।
অনুবাদের মান ও ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করতে খুলনা, গাইবান্ধা, শরীয়তপুর এবং কক্সবাজারে চারটি মাঠপর্যায়ের যাচাই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এসব কর্মশালায় ৬৪টি প্রতিষ্ঠানের ১০৯ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। তাদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে অনুবাদের খসড়ায় প্রয়োজনীয় সংশোধন ও সংযোজন করা হয়। পরে ঢাকায় প্রায় ৩০টি প্রতিষ্ঠানের ৩০ জন প্রতিনিধির অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় যাচাই কর্মশালায় সব অধ্যায়ের চূড়ান্ত পর্যালোচনা সম্পন্ন হয়। মাঠপর্যায়ের কর্মশালাগুলো আয়োজনে রূপান্তর, গণ উন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে), এসডিএস এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন সহযোগিতা করে। এছাড়া ব্যক্তি পর্যায়েও অনেক বিশেষজ্ঞ, অনুবাদক ও মানবিক কর্মী এই গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগে অবদান রাখেন।
আয়োজকদের মতে, স্ফিয়ার হ্যান্ডবুকের বাংলা সংস্করণ বাংলাদেশের মানবিক খাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এটি মাঠপর্যায়ের মানবিক কর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, সেবার মান উন্নয়ন এবং দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি আরও কার্যকর, জবাবদিহিমূলক ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

